প্রবাসী বাংলাদেশিঃ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে অর্থনীতিক অধিকার ও সুবিধা

facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmailby feather

 

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান সর্বজনবিদৃত। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসের এক জরিপে দেখা যায় যে প্রায় ১০ মিলিয়ন প্রবাসী বাংলাদেশি প্রতিবছর বাংলাদেশের বার্ষিক আয়ে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার আবদান রাখেন, যা মূল জিডিপির প্রায় ৬ শতাংশ।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের মুলতঃ ২ ভাগে ভাগ করা যায় –

১) প্রবাসী শ্রমিক ও

২) স্থায়ীভাবে প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশি বা এন. আর. বি. (Non-resident Bangladeshi). তদানুসারে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অর্থনীতিক অধিকার ও সুবিধা সংশ্লিষ্ট আইনসমূহও মুলতঃ ২ প্রকার। নিন্মে তার একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলঃ

ক. প্রবাসী শ্রমিক সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিক আইনি বিধানঃ
জাতিসঙ্ঘ কর্তৃক গৃহীত International Convention on the Protection of the Rights of All Migrant Workers and Members of Their Families, 1990 এর অনুসমর্থনে বাংলাদেশ ২০১৩ সালে “বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩” প্রণয়ন করে।
এই আইনের অধীনে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের নিমিত্তে কর্মী নির্বাচন বা কর্মী প্রেরণ, অভিবাসী কর্মীদের দেশে প্রত্যাবর্তন এবং এই আইনের অধীনে কোন সেবা প্রদান বা কার্য নির্বাহ করার ক্ষেত্রে সমতা নীতি অবলম্বন করতে হবে, অর্থাৎ ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, রাজনৈতিক মতাদর্শ ইত্যাদির ভিত্তিতে কোন প্রকার বৈষম্য করা যাবেনা ।
তদুপরি, রিক্রুটিং এজেন্সি কর্তৃক প্রতারিত শ্রমিককে দেশে প্রত্যাবর্তনের যাবতীয় খরচ ঐ রিক্রুটিং এজেন্সি হতে পুনরুদ্ধার করে প্রতারিত শ্রমিককে প্রদানপূর্বক ঐ এজেন্সির লাইসেন্স বাতিলের বিধান ও রয়েছে এই আইনটিতে।
তাছাড়া বিদেশে বাংলাদেশি মিশন সমুহে প্রবাসী কল্যাণ উইং প্রতিষ্ঠা এবং উক্ত উইং কর্তৃক অভিবাসিদের আইনি সহায়তা বা তাদের সমস্যা সমাধান করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহন করার বিধানও এই আইনটিতে বিদ্যমান।
এছাড়া “ওয়েজ আরনারস কল্যাণ তহবিল বিধিমালা, ২০০২” এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত ওয়েজ আরনারস কল্যাণ তহবিল হতে প্রবাসী শ্রমিকগণ নিন্মল্লিখিত সুযোগ সুবিধা প্রাপ্তির আইনি অধিকার রাখেনঃ

১। উক্ত বিধিমালা অনুসারে ওয়েজ আরনারস বা তাদের পরিবারের সদস্যদের কল্যাণারথে তহবিল হতে অর্থ বরাদ্দ,

২। পঙ্গু বা অসুস্থ ওয়েজ আরনারসদের সহায়তা প্রদান,

৩। ওয়েজ আরনারসদের আটকে পরা মৃতদেহ দেশে ফেরত আনয়ন,

৪। মৃত ওয়েজ আরনারসদের পরিবারদের সহায়তা প্রদান,

৫। ওয়েজ আরনারসদের আইনগত সহায়তা প্রদান ইত্যাদি।
এছাড়া সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার “প্রবাসী কাল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান নীতি ২০১৬” প্রণয়ন করেছে যা প্রবাসী শ্রমিক ভাইদের অভিবাসন কল্যান উদ্দেশ্যে প্রণীত।

খ. স্থায়ীভাবে প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশি বা এন. আর. বি. সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিক আইনি বিধানঃ
বাংলাদেশ সরকার স্থায়ীভাবে প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশি বা এন. আর. বি. কর্তৃক বাংলাদেশে বিনিয়োগকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করে। এ উদ্দেশে ২০১৫ সালে “বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (অনাবাসী বাংলাদেশি) নির্বাচন নীতিমালা, ২০১৫” প্রণীত হয়েছে। এ নীতিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশে শিল্পক্ষেত্রে সরাসরি বিনিয়োগকারী অনাবাসী বাংলাদেশি, বাংলাদেশে বৈধ চ্যানেলে সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণকারী অনাবাসী বাংলাদেশি এবং বিদেশে বাংলাদেশি পণ্য আমদানি কারক অনাবাসী বাংলাদেশিদের মধ্য থেকে ২০ জন করে “বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি” নির্বাচন করা হয়।

নির্বাচিত বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগন নিন্মরুপ সুযোগ সুবিধা প্রাপ্ত হবেনঃ

১। নির্বাচিত সিআইপি (এন. আর. বি.)গণ কে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে সরকার অনুমদিত পরিচয়পত্র প্রদান করা হবে,

২। নির্বাচিত সিআইপি (এন. আর. বি.)গণ তাঁদের পরিচয়পত্রের মেয়াদ থাকাকালিন সময় বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রবেশের জন্য প্রবেশপত্র পাবেন,

৩। সিআইপি (এন. আর. বি.) সরকার কর্তৃক নিয়জিত সংশ্লিষ্ট নীতি নির্ধারক কমিটিতে সদস্য হবার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন,

৪। দেশে ও বিদেশে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে সিআইপি (এন. আর. বি.)গণ অগ্রাধিকার পাবেন,

৫। সিআইপি (এন. আর. বি.) বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অনুরূপ সুযোগ সুবিধা পাবেন এবং তাঁদের বিনিয়োগ Foreign Private Investment (Promotion and Protection) Act, 1980, এর বিধান অনুসারে সংরক্ষণ করা হবে ইত্যাদি।
উল্লেখ্য যে উক্ত Foreign Private Investment (Promotion and Protection) Act অনুযায়ী প্রাপ্ত সুযোগ সুবিধাসমুহের মধ্যে রয়েছে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত পূর্ণ পরিরক্ষন ও নিরাপত্তা প্রদান, মূলধন হস্তান্তর এবং সংশ্লিষ্ট আয় ও বিনিয়োগ লিকুইডেসনের ক্ষেত্রে উৎপন্ন অর্থ ফেরত পাবার নিশ্চয়তা ইত্যাদি। এছাড়াও এই আইনের বিধি অনুসারে বিনিয়োগকারীকে কোন সুযোগ সুবিধা প্রদানে বিদ্যমান অন্য কোন আইন বা বিধি সাংঘরসিক প্রতীয়মান হলে ঐরূপ আইন বা বিধি অকার্যকর করার প্রবিধানও রয়েছে এ আইনটিতে।
*লেখকঃ
রাশেদুল হক, এল. এল. বি. (অনার্স), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সিনিয়র এসোসিয়েট,
কাউন্সেলস ল’ পার্টনারস । সিএলপি,
www.counselslaw.com

You are not authorized to see this part
Please, insert a valid App IDotherwise your plugin won't work.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *